মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৭:৪০

ইরানের নতুন প্রস্তাবে ‘নাখোশ’ ট্রাম্প

ইরানের নতুন প্রস্তাবে ‘নাখোশ’ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্পের মনঃপুত না হওয়ায় সংকট সমাধানের আশা কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। এই যুদ্ধের ফলে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প চান আলোচনার শুরুতেই পরমাণু ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা এই যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেড লাইন' বা সীমারেখা নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সফর বাতিল হওয়ায় শান্তি প্রচেষ্টায় ভাটা পড়েছে।

অন্যদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত কয়েক দিনে ইসলামাবাদ, ওমান এবং মস্কো সফর করে দীর্ঘদিনের মিত্র ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন পেয়েছেন।

আবারো বাড়ছে তেলের দাম দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কোনো লক্ষণ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মঙ্গলবার আরো ৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ সীমিত থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন অবরোধের কারণে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইরান একে ‘সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতি’ বলে নিন্দা জানালেও দেশটি বলছে, বিকল্প বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবহারের প্রস্তুতি তাদের আগে থেকেই ছিল।

শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করত, গত ২৪ ঘণ্টায় যা নেমে এসেছে মাত্র সাতটিতে।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে পর্যায়ক্রমিক আলোচনার কথা বলা হয়েছে। সেখানে প্রথম ধাপে ইরান ও ইসরাইলের ওপর মার্কিন যুদ্ধ বন্ধ এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু না হওয়ার গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। এরপর সমুদ্রপথে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় ইরানের নিয়ন্ত্রণে খোলার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব সমাধান হওয়ার পরই কেবল পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলেছে তেহরান। সূত্র : রয়টার্স

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে